বর্তমানের মোবাইল গুলো এখন আর কেবল যোগাযোগের মাধ্যমে চলে না বা মাধ্যম নয়। স্মার্টফোন এখন এত দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে যে সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাইরে। আর প্রযুক্তির উন্নতি, সহজলভ্যতার কারণে এবং মেবাইলের দাম কম হওয়ার জন্য এখন সবার হাতেই স্মার্টফোন থাকে। প্রায় সব বয়সী মানুষের হাতে এবং তাদের সকলের প্রথম পছন্দ স্মার্টফোন। কেননা স্মার্টফোনে থাকা মানে হচ্ছে দুনিয়া হাতের মুঠোয়, এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে পুরো দুনিয়ার খবর পাবেন এক ক্লিকেই।

আর মোবাইলের ডাটা অথবা WIFI ইন্টারনেট যেটাই ব্যবহার করুন না কেন, ইন্টারনেট সমস্যায় পড়েন না এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল বা খুঁজে পাওয়া যাবে না বললে চলে। আপনার কাজের সময় যদি ইন্টারনেট না থাকে, কোনো প্রয়জনীয় কিছু ডাউনলোড দিচ্ছেন অথবা অনলাইন ক্লাস করেছেন, ঐ সময়ে নেট ঠিকমতো কাজ করছে না করলে সকলের মাথা গরম হবে, বা মেজাজ ঠিক থাকে না।

কেবল অপারেটরদের (ISP) কাছে অনেক সময় সঠিক স্পিড পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন অনেকে তারা ইন্টারনেট সঠিক ভবে প্রোভাইট করে না। এইটা ভূল ধারণা, এই সমস্যার জন্য শুধু যে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডাররা দায়ী নয়। আপনার স্মার্টফোনের কিছু সেটিং এর সমস্যার কারণেও ইন্টারনেট স্পিড কম হতে পারে বা কমে যায়।



কি জন্য ইন্টারনেট স্পিড কমে যায়?

মোবাইলে ইন্টারনেট স্পিড কমে যাওয়ার কারণ হচ্ছে মেবাইল ফোনের ক্যাশ মেমোরি ভর্তি হওয়া। তাই আপনারা নির্দিষ্ট সময় পর ফোনের ক্যাশ মেমেরি ক্লিয়ার করুন। যদি আপনি প্রতিদিন ক্লিয়ার করতে পারপন তাহলে সবচেয়ে ভালো হয়। মূলত ব্রাউজার হিস্ট্রি জমে থাকে এই মেমরির মধ্যে। তাই নিয়মিত এই মেমোরি ক্লিয়ার করা করে রাখবেন।

ইন্টারনেট স্লো হলে আরো একটি কাজ করতে পারেন। আপনার মোবাইলের থাকা প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো আনইন্সটল করে দিন অথবা ডাটা ক্লিয়ার করে দিন। ফোনের মধ্যে অনেক গুলো অ্যাপ থাকে। যে অ্যাপগুলো সবসময় চলতে থাকে। ফলে ইন্টারনেট ব্য়ান্ডউইদের অনেকটা সেই সকল অ্যাপ গুলো নিয়ে নেয়। এতে ইন্টারনেট স্লো হয়ে যায়।

কিভাবে ইন্টারনেট স্পিড বাড়াবেন?

মোবাইলের স্পিড বাড়ানোর জন্য এমন কিছু অ্যাপ ইন্সটল করে নিতে পারেন। যে সকল অ্যাপগুলো ব্যবহার করে আপনার ফোনের ইন্টারনেট স্পিড অনেকটাই বাড়িয়ে নিতে পারবেন। Google Play Store অথবা App Store সহজেই সেগুলো পেয়ে যাবেন, ডাউনলোড করে নিবেন।

আপনি নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন বিভিন্ন ওয়েবসাইট ডুকলে একাধিক পপ আপ অ্যাড স্ক্রিনে ভেসে ওঠে গুগুলের এডস। এই সকল অ্যাডগুলোর কারণেও আপনার ইন্টারনেট স্পিড কমে যে পারে। তাই মেবাইলে অ্যাড ব্লকার অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে আপনার মোবাইলের ইন্টারনেট স্পিড কিছুটা হলেও বাড়বে।

যদি আপনার ইন্টারনেট ব্রাউজিং স্লো হয়ে যায় তাহলে ইন্টারনেট, ব্রাউজার পরিবর্তন করে দেখতে পারেন। অনেক সময় ব্রাউজারের কারণেও ইন্টারনেট সঠিক ভবে ব্যাবহার করা যায় না। শুধু তাই নয়, অনেকগুলো ওয়েবসাইট আছে যে গুলো হোস্টিং সার্ভার বিভিন্ন দেশের হয়ে থাকে, যার জন্য অন্য দেশ থেকে কেউ সাইট ভিজিট করলে সাইটে ডুকতে অনেক সময় নিয়ে থাকে। তাই কোনো একটি ওয়েবপেজ একটি ব্রাউজারে খুলতে দীর্ঘ সময় লাগলে। এই রকম হলে এক ব্রাউজার পরিবর্তন করে অন্য কোনো ব্রাউজার দিয়ে চেষ্টা করতে পারেন।

অরো একটি কারণ হতে পারে নেটওয়ার্ক।আপনার নেটওয়ার্ক টাইপ পরিবর্তন করে দেখতে পারেন। বর্তমানে প্রতিটি ফোনেই 2G, 3G, 4G এবং 5G অপশন থাকে। যদি আপনার মোবাইল-ফোনে 3G বা 4G-র বদলে 2G করা থাকে তাহলে আপনি সঠিক স্পিড পাবেন না হয়তো আপনার ইন্টারনেট প চলবে না। এই জন্য আপনার ফোনের নেটওয়ার্ক সেটিংসে গিয়ে দেখে নিন। যদি 2G বা 3G থাকে তাহলে তা পরিবর্তন করে 4G করে দিন।

আপনার মোবাইল ফোন রিস্টার্ট করে দেখুন। অনেক সময় ফোনের ইন্টারন্যাল সমস্যার কারণেও সঠিক স্পিড নাও পেতে পারেন। সে জন্য আপনার ফোনটি কে একবার বন্ধ করে আবার অন করুন এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করুন। এতে ফোনটি রিবুট হওয়ার ফলে সেটিংস সঠিক হবে এবং কনফিগারেশন সঠিক হবে। যার ফলে আপনার মোবাইলের ইন্টারনেট স্পিড বেশি হবে খানিকটা।

শেষ কথাঃ আমাদের দেশে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডাররা সঠিক ভাবে আমাদেরকে ইন্টারনেট প্রদান করে না। যদি আমাদেরকে ব্যান্ডউইথ দেওয়া হতো, আমাদের সিমের ডাটা অথবা ওয়াইফাই এর ব্যান্ডউইথ সঠিক ভাবে আমাদেরকে প্রদান করত তাহলে আমাদের ইন্টারনেট স্পিড ভালো থাকতো। আমাদের ফোনের কোন সমস্যা নেই, যদিও আমাদের ফোনের অনেকদিন ব্যবহার করার কারণে একটু সমস্যা হয় তাহলে আপনার ফোনটি রিস্টার্ট করে নিবেন তাহলে সকল কিছু ঠিক হয়ে যাবে

Leave a Reply

Your email address will not be published.